গোপন নদীর কাছে
-সন্দীপ সাঁতরা
∞∞∞∞∞∞∞∞∞
রাত নামলেই তোর শরীর খুলে যায়
গোপন কোনো নদীর মতো,
আমি ঠোঁট ডুবাই অন্ধকারে
আর তৃষ্ণা শেখে নতুন ভাষা।
স্তনের ঢেউয়ে ভেঙে পড়ে সমস্ত সংযম,
শ্বাসের ভেতর শ্বাস ঢুকে পড়ে।
আমরা হারিয়ে যাই ঘামে আর কাঁপুনিতে…
ঠিক যেমন আগুন হারায় নিজের টলমলে শিখায়।
আমি তোকে ছুঁই মানে নিষিদ্ধ কোনো প্রার্থনা,
যেখানে ঈশ্বর চোখ ফিরিয়ে নেয়,
আর দেহ নিজের মতো করে
নিয়ম লেখে চামড়ার গ্রাবরেখা মানচিত্রে।
নখ বসে, রক্তের নিচে রক্ত ডাকে,
মাংস মনে রাখে আগুনের ভাষা,
আমরা তখন আর মানুষ নই…
দুটি ক্ষুধা, একে অপরকে খেয়ে বাঁচে কামনার পেট।
তোর কোমরের বাঁকে আমি সময় রেখে দিই,
ঠোঁটের কোণে জমা থাকে ভবিষ্যৎ,
একটুখানি আরেকটু আরেকটু করে ভাঙে শরীর,
ভাঙনের ভেতর জন্ম নেয় নতুন স্বরবর্ণ আর্তনাদ।
আমি তোর ভেতর ঢুকে পড়ি মাতাল ঝড়ের মতো,
তুই আমাকে ধরে রাখিস দহনের মতো,
আমাদের মাঝখানে তখন শুধুই স্পন্দন…
নামহীন, নির্লজ্জ, অনন্ত।
শেষে যখন নিঃশ্বাস ক্লান্ত হয়ে পড়ে,
নুইয়ে পড়া স্তনের ভাঁজে উঁকি দেয় শীতলতা
ঠিক তখনই …
বিছানার ঘামে ঘামে লেপ্টে থাকে নক্ষত্রের ধুলো,
আমরা পাশাপাশি শুয়ে থাকি দুটো ছাই,
তবু ছাইয়ের নিচে জ্বলে থাকে আগুন।
কারণ আমাদের প্রেম কোনো শান্ত জল নয়,
এ এক দেহজোড়া দাবানল,
যেখানে পুড়েই আমরা
বারবার জন্ম নিই….
চিরপ্রবাহী নদীর মতো,
একে অপরের ভেতর।
∞∞∞∞∞∞∞∞∞
কবি পরিচিতি:-
কবি, লেখক, আবৃত্তিকার । সন্দীপ সাঁতরা জন্মগ্রহণ করেন 15 ডিসেম্বর 1992 খ্রিস্টাব্দে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পশ্চিম মেদিনীপুরে জেলার নারায়ানগড় ব্লকের অন্তর্গত এক প্রত্যন্ত গ্রামে ।( পিঠাপুরা) ভূগোল বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন গড়বেতা মহাবিদ্যালয় থেকে। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত রাখেন। অবসর সময়ে পাড়ি দিতেন কল্পনার জগতে যেখানে আনুভূতির শব্দে নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন এক চেনা ছন্দে। ফেসবুক ও অন্যান্য অনলাইন প্লাটফর্মে ইতি মধ্যেই নানা লেখনী প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর প্রথম প্রকাশ কন্যাগ্রন্থ ” খোলা পাতার চিঠি”

