চলো আজ একটু হাঁটি
-সিরাজুল ইসলাম মোল্লা
≅≅≅≅≅≅≅≅≅≅
চলো একটু হাঁটি,
চলো দূর কোথাও বসি
মনের কথা বলি।
চলো ঘুরতে যাই কোথাও,
আজ ফুরফুরে হাস্যোজ্জ্বল মন
হতে চায় মুক্ত বিহঙ্গম।
আজ স্বপ্ন আঁকা স্মৃতি মাখা
ভালোলাগা ভালোবাসি,
চলো একটা সুন্দর মুহূর্ত
উপভোগ করি ধরণী।
আজ ভরা জ্যোৎস্না রাতে
চলো হারাই, দূর কোথাও যাই,
চাঁদের আলোয় আকাশের নীলিমায়
চলো হারাই দূর কোথাও।
কর্মযজ্ঞ হীন শব্দ-ধোঁয়া হীন,
কোলাহল বিহীন কোথাও,
শুভ্র মেঘলা আকাশ তলে
স্নিগ্ধ সমীরণে পাখির কূজনে
হারাই হাতে হাত ধরে
দূর হতে বহুদূরে।
মেটো পথের পাশে
খোলা আকাশের নীচে
চলো দাঁড়িয়ে এককাপ চা খাই।
চলো পাশাপাশি একটু বসি,
বুট বাদাম খেতে খেতে গল্প করি,
জীবনের হিসেব কষি,
ভিতরের নীল কষ্ট দূর করি।
চলো মন রাঙিয়ে প্রকৃতি মাতিয়ে
হারিয়ে যাই অদূর দিগন্তে
বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে।
চলো আজ মিশে যাই
স্বপ্নপুরে মনের মত করে
চঞ্চলা নদীর কূল ধরে
ঘাসফড়িং প্রজাতির সাথে।
চলো আজ ঝিঁঝির গান শুনি,
জোনাকির সাথে খেলি,
সানবাঁধা ঘাটে বসি ঢিল ছুড়ি।
বাঁশঝাড়ে শনশন পুকুরে ছলছল
নৈসর্গিক শব্দে বিমোহিত হতে
চলো হাঁটি মায়া দর্শনে।
কৃষ্ণচূড়া ছড়িয়ে কচুরিফুল মাখিয়ে,
সরিষা মুলোফুলের আইল ধরে
আগে পিছে পাশাপাশি ছুটি,
চলো আজ একটু হাটি
মুক্তির স্বাদে মুক্ত সাধে।
চিত্তানন্দে নিত্যানন্দে
ঝর্ণার বাঁধভাঙা জোয়ারে
চির অষ্টাদশী কী ষোড়ষী হয়ে
চলো আজ মায়াবন হতে
মনে মন হারিয়ে ইচ্ছেঘুড়ি হয়ে উড়ি।
আজ খুশিতে ক্লান্তি নাশিতে
কাশবন শালবন মাড়িয়ে
আঁকাবাঁকা মেটোপথ পেড়িয়ে
অচিন পথে খোলা মাঠে
চলো আজ হাঁটি দু’জনে।
একঘেয়েমির ডানা কাটি
আজ মুক্ত মানব হয়ে
যেমন খুশি সাজি
অনন্ত ভালোবাসার খোঁজে,
চলো আজ একটু হাঁটি।
কবি পরিচিতি
≅≅≅≅≅≅≅≅≅≅
সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
কবি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (পিতা আব্দুল মান্নান মোল্লা ও মাতা হাজেরা বেগম) বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অন্তর্গত রামপাল ইউনিয়নের জোড়ার দেউল গ্রামের এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৭৮ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। ছয় ভাই ছয় বোনের মধ্যে কবি ১১ তম। উত্তরসূরী হিসেবে স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। ১০ বছর বয়স হতেই কবির লেখালেখির হাতে খড়ি। এছাড়াও পছন্দ দাবা, আড্ডা দেওয়া ও লেখালেখি করা। তিনি এক সময় প্রথম আলো ব্লগ সহ অন্যান্য ব্লগে লেখালেখি করেন এবং বর্তমানে ফেইসবুকে বিভিন্ন অনলাইন সাহিত্য গ্রুপে লেখালেখি সহ সাহিত্য চর্চায় নিবেদিত।

