মধুময় শৈশব
-মোহাম্মদ ছোলেমান ভূঁইয়া
∞∞∞∞∞∞∞∞∞
হায়রে আমার হারিয়ে যাওয়া মধুময় শৈশব,
তোমাকে ফিরে পেতে চায় মন ক্ষণ অনুভব।
চাঁদনি রাতে ঘুমাতাম উঠোনে মাদুর পেতে,
দাদী শুনাতেন শুয়ো দুয়ো রাণীর গল্প রাতে।
দাদী গেছে দূর অজানা শৈশব সময়ের স্রোতে,
আবার যদি আসতো, সাধ জাগে ফিরে পেতে।
গ্রীষ্মের অলস দুপুর বট ছায়ায় থাকতাম বসে,
মাতাল হতাম মাঠের ধানের গন্ধভরা বাতাসে।
বন্ধুরা মিলে সাঁতার কাটতাম ডাকাতিয়ার জলে,
জ্বর এলে আদরের শাসনে মা দিতেন কান মলে।
বন্ধুরা সব থাকতাম মেতে দাড়িয়াবান্ধা খেলায়,
হঠাৎ আকাশে মেঘ করে বৃষ্টি নামতো অবেলায়।
ডিঙি করে ডাকাতিয়ার বুক চিরে যেতাম বহুদূর,
আজও কানে বাজে মাঝির কন্ঠে ভাটিয়ালি সুর।
জানি আর পাবো না মোর সোনালী শৈশব ফিরে,
আমিও একদিন জড়ো হবো না ফেরাদের ভীড়ে।
∞∞∞∞∞∞∞∞∞
কবি পরিচিতিঃ
কবি মোহাম্মদ ছোলেমান ভূঁইয়া ৪ঠা এপ্রিল ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার বক্রিকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।পিতা আবদুল জলিল ভূঁইয়া ও মাতা মোসাঃ ছালেহা বেগম।
তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। বর্তমানে চান্দিনা মোকাম বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিনি বিভিন্ন পত্রিকা ও সাহিত্য গ্রুপে লেখালেখি করে থাকেন। তিনি একাধারে এক জন কবি, ছড়াকার, গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও শিক্ষক।
মেঘলা আকাশে পূর্ণিমা চাঁদ, নীলার মনে নীল দুঃখ, আলোয় ফেরার রইলো নিমন্ত্রণ, তিমির বিনাশী বাতিঘর, মন গহীনে পোড়ে মন, এক অকিঞ্চন আত্মভোলা ও অতিক্রান্ত স্টেশনের গল্প’ তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি।
তিনি আন্তর্জাতিক কবি ও সাহিত্যিক পরিষদ কর্তৃক ‘গ্রন্থ সম্মাননা-২০২৫ ইং’, পীরে কামেল দেওয়ান মাহবুবুল আলম (চিঃ)’সাহিত্য পুরস্কার -২০২৫ ইং’ও কবি বন্ধু সাহিত্য পাতা কর্তৃক ‘কবি নজরুল এওয়ার্ড-২০২৫ ইং’ অর্জন করেছেন।
কবিতার পাতা মনের কথা শুনুন,প্রাণের কথা লিখুন