দূর থেকেই ভালোবাসি
-রবিন রায়
≈≈≈≈≈≈≈≈
চাঁদে আছে দাগ, সে তার গড়ন ,
প্রকৃতি সৃষ্টি করেছে তারে এমন;
আ! তাতে তার কি দোষের বলো,
বৃথা গঞ্জনায় তারে কেন যে ছলো!
কেউ বলে কুলটা, কেউ বলে কলঙ্কিতা ;
সুবিশাল গগনে তবুও নিত্য হয় অঙ্কিতা।
কলঙ্ক ডার জন্ম থেকেই প্রাপ্ত,
তাই তো নির্লজ্জে করে ব্যপ্ত।
কলঙ্কটা বাদ দিয়ে রাখো,
অন্য গুণও তো আছে দেখো;
আছে মিঠেল জ্যোৎস্বা হাসি,
অন্ধকারে ভরে রশ্মি রাশি।
সে সন্ধ্যার রজনীগন্ধা,
রাত্রের গন্ধরাজ, আবেশিতা ছন্দা;
খোঁপায় তার গোঁজে বেলি, চামেলি,
মাতম হাওয়ায় দোলে কেশ এলি ।
কত চাতক থাকে অধীর আগ্রহে,
বিনিদ্র রজবী জাগে মত্ত ব্যগ্রে ;
তার বিগলিত অধর সুধা পানে রয় তৃপ্ত,
নিশাচরের কাঙ্ক্ষিতা প্রজ্জ্বলিতায় দৃপ্ত।
জানি ও জোছনা তার নিজের নয়,
রবির কিরণ প্রতিফলনে দীপ্তিময় ;
সক্ষমতার অনুযায়ীই তো সঙ্গতা মিলায়,
সম্ভাবনার উর্ধ্বে গিয়েও তৃপ্ততা বিলায়।
আমারও আকাশে দেখি যে তারে, আবেগে ভাসি;
নিকটে দাগ দৃশ্যমান, তাই দূর থেকেই ভালোবাসি।
≈≈≈≈≈≈≈≈
কবি পরিচিতি ঃ—-
কবি ও সাহিত্যিক রবিন রায় ১৯৮৫ সালে ভারতবর্ষ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার পশ্চিম ধনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দরিদ্র ঘরে জন্ম নিয়ে সুদীর্ঘ দারিদ্র্যতাকে সঙ্গী করেই উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে। আর্থিক অবস্থা অতি দুর্বল হওয়ায় পড়াশুনায় ইতি টানেন। জন্ম লব্ধ কাব্যিক গুণে
কবিতা লিখে থাকেন। বহু যৌথ সংকলনে তার বহু কবিতা
মুদ্রিত হয়েছে। বর্তমানে লেখার মধ্যেই আছেন বাংলাসাহিত্যকে সম্বৃদ্ধতার উপহারে ভরাতে। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগের সাহাযঢ় পেলে আরো প্রচুর কবিতা
পাঠক সমাজের কাছে পৌঁছে যাবে। উদ্যোগপতিদের সুনজরের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে, সকলকে শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা জানিয়েছেন সতত।
কবিতার পাতা মনের কথা শুনুন,প্রাণের কথা লিখুন