এ কী অনাসৃষ্টি
-আবুল হাসমত আলী
∞∞∞∞∞∞∞
“গ্যাস নেই তো হয়েছে কি? কাঠেই রাঁধবি ভাত।”
“বলিস কিরে? হাত পুড়িয়ে করব জীবন বরবাদ?”
“এতে এমন কিই বা ক্ষতি, কালি একটু লাগবে।
সাবান দিয়ে ধুয়ে দিলে সব নোংরা দূর হবে।”
“কালি মেখে ভাত খেতে নই যে আমি প্রস্তুত।
বাপের বাড়ি চললাম আমি, ভাত আছে মোর মজুত।”
“আরে অত রাগ কি সাজে? মোদের এই সংসারে।
দেখছি ভেবে কি করা যায়, যাচ্ছি আমি তারই তরে।”
“গ্যাস পেয়েছিস? পাসনি সত্যি? কারণ আমি বুঝি।
তোর দ্বারা কোন কাজ হয় কভু সোজাসুজি?
দেশের লোকের মুরোদ আছে, কোন কিছু করার।
কেবল তোরই পাল্লায় পড়ে জীবন গেল আমার।”
“আরে ভেবেছিস কি আমাকে যা তা ভাবিস না।
পারিনা কি কিছু করতে? এতে করবি রান্না।”
“এটা কি রে? বুঝি না যে, একটু বুঝিয়ে বল।”
“এটা হচ্ছে সেই ইনডাকশন রান্না করার উনান।
অনেকেই তো এমনিভাবে গোপন রাখছে হাঁড়ির টান।”
“তোর অভাব তো লেগেই আছে সারা জীবন দেখছি।
এতই যদি অভাব ছিল কেন রে ঘর বাঁধলি?
থাকতিস হয়ে বাউন্ডুলে, আমা হতে বহু দূরে।
আমি যেতাম অন্য কোথাও ভরাট সরোবরে।”
∞∞∞∞∞∞∞
কবি পরিচিতি:
আমি, আবুল হাসমত আলী, পিতা- সেখ আতর আলী, মাতা- ইন্নান্নেসা বিবি, ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পূর্ব বর্ধমান জেলায় বাস করি। আমার গ্রামের নাম ‘এরুয়ার’ যেটা ভাতার থানার অন্তর্গত। আমি ১৯৭৪ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করি। আমি প্রকৃতি ভালোবাসি, ভালোবাসি পৃথিবীর মানুষকে ও জীবজগতকে। আমার কাছে ধর্ম মানে মানবিকতা। তাই মানুষের মর্যাদা হানি আমাকে সর্বদা পীড়া দেয়। পৃথিবীর সকল মানুষের সুষ্ঠ শান্তিপূর্ণ জীবনের আমি কামনা করি।
কবিতার পাতা মনের কথা শুনুন,প্রাণের কথা লিখুন