উপেক্ষার দগ্ধ নক্ষত্র -নাইমুর রহমান সোহাগ

উপেক্ষার দগ্ধ নক্ষত্র

-নাইমুর রহমান সোহাগ

≈≈≈≈≈≈≈≈

অদৃশ্য গ্যালাক্সির ভেতর, এক নক্ষত্র নীরবে জ্বলে,

তার আলো পৌঁছায় না কোথাও—অবহেলার অন্ধ গহ্বরে দোলে।

সময়ের কৃষ্ণগহ্বর টানে তার দীপ্তির শেষ স্বর,

উপেক্ষিত আলোরাও কি তবে নিঃশেষ হয় অবহেলায় ঘর?

সে তো একদিন ছিল দীপ্ত, প্রভাতের প্রথম রোদ্দুর,

স্বপ্নের মহাকাশ জুড়ে লিখত সম্ভাবনার নীল নূর।

কিন্তু অনাদরের ধূলিকণায় ঢেকে গেল তার দীপ্তি,

স্বীকৃতিহীন মহাশূন্যে হারালো উজ্জ্বল নীতি।

শব্দহীন বিস্ফোরণে ভাঙে তার অন্তর্গত নীর,

কেউ শোনে না সেই সুর—তবু কাঁপে অস্তিত্বের শির।

অবজ্ঞার উল্কাবৃষ্টি ঝরে অবিরত তার বুকে,

তবু সে জ্বলে—নিজস্ব ছন্দে, নিভে না কোনো দুঃখে।

কত আলো হারিয়ে গেছে, ইতিহাস রাখেনি চিহ্ন,

যাদের জ্বালা কেউ দেখেনি—তাদেরই গভীর দিন।

তবু সেই দগ্ধ নক্ষত্র জানে, আলো মানেই দান,

উপেক্ষিত হয়েও জ্বলে থাকা—সেই তো চূড়ান্ত প্রাণ।

হয়তো কোনো দূর ভবিষ্যৎ, কোনো অচেনা চোখ,

তার ক্ষীণ আলোয় খুঁজে নেবে অনন্ত পথের শোক।

তাই সে পুড়ে, তাই সে জ্বলে—অবহেলারই তরে,

কারণ দগ্ধ নক্ষত্ররাই পথ দেখায় অন্ধকারের ভরে।

≈≈≈≈≈≈≈≈

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

লেখক নাইমুর রহমান সোহাগ ১৯৯৭ সালের ২৬ জুলাই ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার এক গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মা বাবার একমাত্র এবং বড় ছেলে৷ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ করেন৷ বর্তমানে এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিবন্ধনের মাধ্যমে জাফর ইমাম বীর বিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়, দাগনভুঞা, ফেনীতে সহকারী শিক্ষক জীববিজ্ঞান পদে কর্মরত আছেন ।

Check Also

চেতনার জাগরণ -তনুশ্রী বসু (পাত্র)

চেতনার জাগরণ -তনুশ্রী বসু (পাত্র) ∼∼∼∼∼∼∼∼∼ মান আর হুস নিয়ে, প্রকৃত মানুষ তৈরি হয় , …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *