অনুরাগ অভিমান
-সিরাজুল ইসলাম মোল্লা
≈≈≈≈≈≈≈≈
যতই বাঁকা চোখে রাগাও
পাশে পাশেই থাকবো,
যতই রাগ অনুরাগ ঝরাও
ততই কাছে ডাকবো।
যতই আড়াল করতে চাও
ততই কাছে আসবো,
যতই অভিমানে ছলা নাও
ততই ভালোবাসবো।
করেছি যে সত্ত্ব সম্প্রদান
তবু কেন চ্ছেদ প্রার্থী,
লীলা স্রষ্টারই শাশ্বত দান
হাসগো চির কামার্থী।
অবেলায় কেন অভিমান
শুধাও আজ সহযাত্রী,
কবে হবে ভ্রান্তি অবসান
আর কত বিদুর রাত্রি?
বাও গো পারাপারে খেয়া
হৃদ অভিমান রোধনে,
দাম্পত্য সঙ্গমসুখ মাগিয়া
তব আশে প্রেমাঙ্গনে।
ধূসর বিবর্ণ বিষাক্ত ধোঁয়া
করো শ্রাদ্ধ তপোবনে,
দাও গো অনুরাগের ছোঁয়া
পুষ্পালির আলিঙ্গনে।
আশারই বাঁধনে আজও
তনু মন ব্যাকুল মগনে,
বৃথাই কেন দূরত্ব গড়াও
অপূর্ণ আস্বাদ পূরণে!
রাঙাও লগ্ন প্রেমাত্মারও
মিলনে জীবনে মরণে,
হোক দূর অদূর যন্ত্রণাও
প্রতীক্ষার শেষ বন্ধনে।
জনম জনমের সাথী হয়ে
এসেছি গো দুজনে,
এক জনমে স্বপ্ন বিনিময়ে
মিটবে সাধ কেমনে?
লক্ষ কোটি বর্ষ প্রেমি হয়ে
মায়ার টানে সাধনে,
ভালোবাসার স্মারক হয়ে
পুষ্প ফুটুক ভুবনে।
গহন প্রেমের আকুতিসব
ভাসে চোখের কোনে,
ভালো লাগে আরও তব
অনুরাগের অভিমানে।
রাগের ছোঁয়া সুখানুভব
দাও গো মম তনু মনে,
হারাবো দুজনে মধূৎসব
এসো গো বাহু বন্ধনে।
≈≈≈≈≈≈≈≈
কবি পরিচিতি-
সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ কবি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (পিতা আব্দুল মান্নান মোল্লা ও মাতা হাজেরা বেগম) বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অন্তর্গত রামপাল ইউনিয়নের জোড়ার দেউল গ্রামের এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৭৮ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। ছয় ভাই ছয় বোনের মধ্যে কবি ১১ তম। উত্তরসূরী হিসেবে স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। ১০ বছর বয়স হতেই কবির লেখালেখির হাতে খড়ি। এছাড়াও পছন্দ দাবা, আড্ডা দেওয়া ও লেখালেখি করা। তিনি এক সময় প্রথম আলো ব্লগ সহ অন্যান্য ব্লগে লেখালেখি করেন এবং বর্তমানে ফেইসবুকে বিভিন্ন অনলাইন সাহিত্য গ্রুপে লেখালেখি সহ সাহিত্য চর্চায় নিবেদিত।
কবিতার পাতা মনের কথা শুনুন,প্রাণের কথা লিখুন