অণুগল্প
নারী
-মোহাম্মদ ছোলেমান ভূঁইয়া
∞∞∞∞∞∞∞∞∞∞
নারী জগতের মহা বিস্ময়।সে সকল ধরনের পরিস্থিতি মানিয়ে নিতে সক্ষম। একই সাথে একাধিক শিশু পালনে অতীব পটু।তার একটি প্রেমময় চুম্বনে ক্ষত বিক্ষত হৃদয় সেরে উঠে। সে টানা চব্বিশ ঘণ্টা সেবা দিতে সক্ষম। ঈশ্বর নারীকে সৃষ্টি করছিলেন, কিন্তু অন্য সবকিছুর তুলনায় সময় একটু বেশি নিচ্ছিলেন। এই কালবিলম্ব দেখে এক দেবদূত ঈশ্বরকে জিঙ্গেস করলো,”হে ঈশ্বর! আপনি নারী সৃষ্টির বেলায় এতো সময় নিলেন কেনো?”
জবাবে ঈশ্বর বললেন, “হে বৎস!তাকে আমি অত্যন্ত শক্তপোক্ত কতগুলো বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছি। তুমি ধারণা করতেও পারবে না তার সহ্যসীমা কত?”
দেবদূত এবার নারী অবয়বের নিকট গেলো,তাকে স্পর্শ করে দেখলো। তার শরীর অত্যন্ত কোমল। দেবদূত অত্যন্ত বিস্ময় প্রকাশ করলো এবং ঈশ্বরকে আবার প্রশ্ন করলো,” হে ঈশ্বর! সে তো অত্যন্ত কোমল।সে কি কোনো চিন্তা করতে পারবে ? “
উত্তরে ঈশ্বর বললেন, “হে বৎস!সে শুধু চিন্তা নয়,কারণ অনুসন্ধান এবং তার সমাধান দিতে পারবে। “
এবার দেবদূত নারী অবয়বটিকে আরো ভালোভাবে পরখ করে দেখলো এবং ঈশ্বরকে বললো,”হে ঈশ্বর!
এই নারী তো অনেক ছিদ্রযুক্ত।”
ঈশ্বর তাকে আশ্বস্ত করে বললেন, “চিন্তা করো না বৎস!চোখের কোনে যে ছিদ্র দেখছো তা থেকে জল গড়িয়ে পড়বে কখনো আনন্দে, কখনো দুঃখে,কখনো গর্বে,কখনো তীব্র যন্ত্রণায়।বক্ষ বরাবর যে ছিদ্রযুগল দেখছো তা অমিয় ধারা, যা পান করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেড়ে উঠবে। আর নিচে যে গিরিপথ দেখছো
সেখানে রেখেছি হিমালয় সমান রহস্য।”
দেবদূত এবার অত্যন্ত অভিভূত হয়ে বললো,”ঈশ্বর আপনি সত্যিই অত্যন্ত গুনী,এতোকিছু একের ভিতর সাজিয়ে দিয়েছেন। তাহলে নারী সবদিক থেকেই পরিপূর্ণ। “
ঈশ্বর জবাবে বললেন, ” না বৎস!সে একেবারে পরিপূর্ণ নয়,তারও একটা অপূর্ণতা রেখে দিয়েছি।আর তা হলো,সে কোনো প্রতিদান চাইতে জানবে না।”
তাই তো জগত সংসারে নারী অতি রহস্যময়ী।
∞∞∞∞∞∞∞∞∞∞
লেখক পরিচিতিঃ
কবি মোহাম্মদ ছোলেমান ভূঁইয়া ৪ঠা এপ্রিল ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার বক্রিকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।পিতা আবদুল জলিল ভূঁইয়া ও মাতা মোসাঃ ছালেহা বেগম।
তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। বর্তমানে চান্দিনা মোকাম বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিনি বিভিন্ন পত্রিকা ও সাহিত্য গ্রুপে লেখালেখি করে থাকেন। তিনি একাধারে একজন কবি, ছড়াকার, গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও শিক্ষক।
মেঘলা আকাশে পূর্ণিমা চাঁদ, নীলার মনে নীল দুঃখ, আলোয় ফেরার রইলো নিমন্ত্রণ, তিমির বিনাশী বাতিঘর, মন গহীনে পোড়ে মন, এক অকিঞ্চন আত্মভোলা ও অতিক্রান্ত স্টেশনের গল্প’ তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি।
তিনি আন্তর্জাতিক কবি ও সাহিত্যিক পরিষদ কর্তৃক ‘গ্রন্থ সম্মাননা-২০২৫ ইং’, পীরে কামেল দেওয়ান মাহবুবুল আলম (চিঃ)’সাহিত্য পুরস্কার -২০২৫ ইং’ও কবি বন্ধু সাহিত্য পাতা কর্তৃক ‘কবি নজরুল এওয়ার্ড-২০২৫ ইং’ অর্জন করেছেন।
কবিতার পাতা মনের কথা শুনুন,প্রাণের কথা লিখুন