*গল্প*
এবার জাগো তুমি
-মীনা কুণ্ডু
∼∼∼∼∼∼∼∼∼∼
হারাধনবাবু মুখ বুজে সন্তানের শত অত্যাচার সহ্য করে যান। মাঝে মাঝে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে
বলেন সংসার ছেড়ে চলে যাবেন তিনি। একমাত্র সন্তান হারু। পড়াশনায় বিরক্তি তার।
হারাধনবাবু ঘরের শান্তির জন্য বছরে এক দুইবার ভ্রমণের ব্যবস্থাও করেন , তাতেও ছেলের মন পাওয়া যায় না।
শুধুই টিভি আর হাতে মুঠোফোন। বিকেল হলেই খেলাধুলা। সন্ধ্যায় বই নিয়ে পড়তে বসে নামে মাত্র।
হারু এখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। মাস্টারমশাইকে রোজ মিথ্যা কথা বলে আজ পেটে ব্যথা করছে কাল বুকে ব্যথা ,পরশু গা বমি ইত্যাদি। এই ভাবেই কাটছিল দিন। বছরের প্রথমেই পর পর স্কুলের পরীক্ষায় হারু পাশ করতে পারল না। স্কুল থেকে থেকে শিক্ষক মহাশয় ডেকে পাঠালেন হারুর বাবাকে।
শিক্ষক মহাশয় বললেন এর পরের পরীক্ষায় পাশ করতে না পারলে ক্লাসে তুলবেন না। অপমানিত হয়ে বাড়ি ফিরে এলেন হারাধনবাবু।
কিছু দিনপর হারাধন বাবুর বোনের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে ঘাটশিলা চললেন বাড়ির সকলে মিলে।
ট্রেনে করে যাবার সময় হারু দেখলো ওর ই বয়সি
একটি ছেলে চুপচাপ নিজের মনে পড়ে যাচ্ছে। কোনো দিকে তাকায় না। হাতে ফোন নিয়েও দেখেনা। পাশাপাশি বসে আছে দুইজনে। ট্রেনে কত কিছু ওঠে কোনো বায়নাও করে না ছেলেটি। কিন্তু
হারু বাবা ও মাকে বিরক্ত করেই চলেছে।
ট্রেন পাঁশকুড়া পেরিয়ে প্রায় আধ ঘণ্টা একটানা দৌড়ে ট্রেন থামল খড়গপুর স্টেশনে। প্ল্যাটফর্মে
দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য মানুষের ভিড়। হকারদের
হুড়োহুড়ি চিৎকার চেঁচামেচি তবুও পাশের ছেলেটি চুপচাপ মুখ গুঁজে একমনে পড়ে যাচ্ছে।
ট্রেন ছুটে চলেছে আপন মনে। নিমপুরার লাল কাঁকুরে মাটির দেশ দেখা গেলো। ।তারপর
কলাইকুণ্ডায়ার সেনানিবাসের সার্চ লাইটগুলো দূর হতে দেখা গেলো। শাল গাছে ঘেরা ছোট্ট শহর ঝাড়গ্ৰামে ট্রেন থামল। আস্তে আস্তে ট্রেন বিহারে ঢুকে গেলো। অবশেষে দূর থেকে দেখা গেলো
ফুলডুংরি পাহাড়। ট্রেন থামল ঘাটশিলায় ।
ব্যাগ ব্যাগেজ সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে স্টেশন থেকে বেরিয়ে এলো হারাধন বাবুরা। পাশের ছেলেটির সাথে ইতিমধ্যে আলাপ সেরেছে হারু। ছেলেটি নবম শ্রেণীর ছাত্র। ছেলেটি হারুকে বলেছে এখন থেকে তুমি যদি পড়াশনা না করো তবে মাধ্যমিকে ভালো করে পাশ করতে পারবে না। সময় নষ্ট করো না। সময় বড় মুল্যবান । হারু নিজে নিজেই লজ্জাবোধ করতে লাগলো। সে দেখলো সেও একটা তার বয়সি ছেলে
কারুর দিকে না তাকিয়ে নিজের মনে পড়াশনা করে যাচ্ছে। মনের কোণে একটু হলেও ব্যথা পেলো হারু।
হারাধনবাবু সুন্দর করে বুঝিয়ে হারুকে বললেন তুমি
বোঝা না, নিজের হাতে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য নিয়মিত পড়াশনা করা দরকার। সংকীর্ণ গণ্ডিতে পড়ে থেকে নিজের জীবনটাকে নষ্ট করো না হারু।
শিশুকাল থেকেই তুমি বড্ড বেশি অবাধ্য।
বাড়িতে মাস্টার মশাইয়ের কথা শোনো না। বাবা মা ঠাকুমা দাদু কারুর কথায় কান দাও না। সারাদিন খেলা খেলা আর খেলা।
তোমার জীবনের কোন লক্ষ্য নেই, তুমি চাও না ক্লাসে খুব ভালো রেজাল্ট করতে। এবার জাগো তুমি নিজেকে প্রমাণ করো তুমিও পারো।
∼∼∼∼∼∼∼∼∼∼
লেখক পরিচিতি —
আমি মীনা কুণ্ডু। উত্তরপাড়ার হুগলি জেলার বাসিন্দা আমি। ছোটো থেকে বড় হয়ে ওঠা খেলাধুলা, পড়াশোনা সব কিছু উত্তরপাড়ায়। বর্তমানে বিবাহ সূত্রে কলিকাতায় বসবাস করি। গল্প, কবিতা লিখতে পড়তে ভালো লাগে তাই একটু লেখার চেষ্টা করি।
কবিতার পাতা মনের কথা শুনুন,প্রাণের কথা লিখুন