ঠিকানা
-শান্তি দাস
∞∞∞∞∞∞∞
খোকা যেদিন তোকে গর্ভে ধরেছিলাম আমি ভাবছি দিনগুলি,
জন্মের পর তোর মুখখানা কেমন ছিল করছি স্মৃতি চারণ।
আজ কেন এত অবহেলা অবজ্ঞা হয়েছি তোদের বোঝা,
যত কষ্ট হোক বুকে আগলে রেখে তিলে তিলে হয়েছিলে বড়।
আজ মায়ের কথা একটি বার ও বলিস না মুখে কেমন আছো মা,
ভাবছি ছোট্ট ঘরের কোণে বসে ভাগ্যে এতো ঘৃনা তোর মনে।
বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে গেছিস এটাই অবলম্বন আজ উপেক্ষা করে চলা,
রুটিন মাফিক চলা এটাই জীবন তোদের থেকে অনেক দূরে।
ভালো থাকিস খোকা আমাকে দায়িত্ব এড়িয়ে সুখের সংসার গড়িস,
সংসারের দায় দায়িত্ব পালনে বুঝবি অবহেলা অবজ্ঞার মর্ম।
আজ নিজের প্রতি ঘৃনা গর্ভ ভালো হলে আশ্রয় হতো না বৃদ্ধাশ্রমে,
শ্রমের বিনিময়ে বড় ভালো আছি জীবনে ফেলেছি গায়ের ঘাম।
তোর ছেলে তো বড় হয়েছে পায় না যেনএমন শিক্ষা,
পিতা তো গুরু তাই বলছি ওকে দিস কিন্তু ভালো দীক্ষা।
ভালো আছি আজ এই আপন নীড়কে নিজের করে নিয়েছি,
জীবনে দুঃখ কষ্ট সয়েছি আজ একান্ত আপন নীড় পেয়েছি।
শেষ ঠিকানা পেলাম খুঁজে, ঘৃনার হয়ে ও আজ অনেকের প্রিয়,
মানুষের মতো মানুষ তৈরি করতে পারলে ঘটতো না জীবনে,
ভালো থাকিস খোকা তোর কথা মনে হলে কান্না ঝরে,
আজ আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রমে আছি সুখের নীড়ে।
∞∞∞∞∞∞∞
কবি পরিচিতি-
ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা ।উত্তর পূর্বাঞ্চলের খুব ছোট একটা রাজ্য ।ত্রিপুরার তিনদিকেই বাংলাদেশের ঠিকানা ।রাজধানী থেকে কিছুটা দূরে দূর্জয় নগরে আমার জন্ম ।ছোটবেলা আমি খেলাধুলা করতাম।গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষা শুরু ।ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী মহারানী তুলসীবতী বালিকা বিদ্যালয়ে।স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মহারাজা বীরবিক্রম কলেজে।এরপর কোলকাতা নদীয়ার কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করি। ১৯৯৬ সালে শিক্ষা দপ্তরে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পদে শিক্ষকতা শুরু।
কবিতার পাতা মনের কথা শুনুন,প্রাণের কথা লিখুন