চরিত্র
-রবিন রায়
∼∼∼∼∼∼∼∼
চরিত্র, প্রাণীর সহজাত প্রবৃত্তি বা মূল স্বভাব,
যা প্রাণীর অনায়াস কর্মের মাধ্যমে প্রকাশিত ;
এটি প্রাণীকুলের সেই বিশেষ নিজস্ব বৈশিষ্ট্য –
যে একান্ত ধারায় তার জীবন গতি পরিচালিত।
তার ভাবধারায় সেই বিশেষণ অব্যয় রূপে –
প্রতিবিম্বিতের আকারে স্বরূপ পরিব্যক্ত করে,
স্বীয়ের পরিবেশে, সমাজে, মূর্ত সংস্কৃতিতে –
দেশ ও দশের সম্মুখে বিমূর্ত মূর্তিমতি ধরে।
ব্যাঘ্রের চরিত্র হিংস্রতা, অহির ছোবল মারা,
হরিণের চঞ্চলতা, বিহগের কলতান সুরেলা,
শকুন ও বায়সের মৃত পচা আবর্জনা আহার,
গবাদির শান্ত স্বভাবে পোষ্য জীবন বেলা।
বিটপের দান ধারা, মৃত্তিকার সহনশীলতা,
তটিনী বহতায় বিচল, পর্বতের ধীর মৌনতা ;
দানবের দস্যুতা, মানবের চরিত্র সে বিচিত্র।
চরিত্রগুণে হয় পরিচয়, পবিত্র, পাতক,
স্বার্থপর, শয়তান, পাশবিক, নৃশংস ইত্যাদি ;
মনুষ্য নিজ চরিত্র সম্পর্কে সন্দিহান বলেই –
চরিত্র তুলতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষোভে।
উত্তম ও অধম চরিত্রের শ্রেণীবিভাগ ধরণে,
চরিত্রহীন অর্থ স্ব প্রজাতির বৈশিষ্ট্য বিহীনতা,
অবৈধ কামুকতাই চরিত্রহীন কদাপি নয়,
তাই, চরিত্রহীন বলাতে রাগান্বিত হওয়া মানেই
আদতেই তোমার প্রকৃত সত্তার ত্রুটি রয়েছে।
আপন বৈশিষ্ট্যের স্বরূপ অবলোকন কিম্বা –
পরিত্যাগ করা বা মুখোশ ধারণ চরিত্রহীনতা।
তোমার ক্রোধই তোমার ত্রুটির প্রকাশ করণ,
ধাতু দোষও এক চরিত্রহীনতা, সেটাই তবে সত্য?
তোমার ব্যথাই জানান দেয় সেই ক্ষতস্থানের তথ্য।
∼∼∼∼∼∼∼∼
কবি পরিচিতি ঃ—-
কবি ও সাহিত্যিক মাননীয় রবিন রায় মহোদয় আমাদের সকলেরই সুপরিচিত একজন দক্ষ লেখনীধর, যিনি বর্তমান পশ্চিম বঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার পশ্চিম ধনিয়া গ্রামে ১৯৮৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বহু লেখা এর আগেও আমাদের এবং অন্যান্য পত্র পত্রিকায় মুদ্রিত হয়েছে। দরিদ্র ও সৎ পিতা মাতার কনিষ্ঠ পুত্র সন্তান গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাথে উচ্চ বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষা অর্জন করেন। বর্তমানেও তিনি সক্রিয় লেখালেখির মধ্যে রয়েছেন। তাঁর অসাধারণ এবং মনোমুগ্ধকর অজস্র সুন্দর লেখা পেয়ে আমরা সম্বৃদ্ধ এবং উৎফুল্ল। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের থেকে উনার আরো বহু অনবদ্য লেখা পাওয়ার আশা রাখি। তাঁর নিজস্ব ও সাহিত্য জীবনের অগ্রগতি ও সম্বৃদ্ধি প্রার্থনা করি। সবাইকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সবিশেষ আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
কবিতার পাতা মনের কথা শুনুন,প্রাণের কথা লিখুন