সুখশয্যা -সিরাজুল ইসলাম মোল্লা

সুখশয্যা

-সিরাজুল ইসলাম মোল্লা

∼∼∼∼∼∼∼∼∼

গলে হাত জড়িয়ে পায় পা জড়িয়ে

কামনার সাধ জাগিয়ে,

চোখে চোখে তাকিয়ে

মুখোমুখি শুয়ে ঘুমাও গো হৃদয়ে।

পাশাপাশি শুয়ে বাঁধভাঙ্গা প্রলয়ে

লাজুক কামুক অঙ্গ,

তনু মনে প্রেম তরঙ্গ

খোঁজ উষ্ণতা গায়ে স্পর্শ ছড়িয়ে।

ভালোবাসা দিয়ে ভালোবাসা নিয়ে

কপোলে চুমো রাখো,

ওষ্ঠাধরে চুমো রাখো

চুলে হাত বুলিয়ে শীরে পরশ দিয়ে।

কখনো বক্ষদেশে কখনো পৃষ্ঠদেশে

উষ্ণতার আলতো ছোঁয়া,

স্বর্গীয় সুখ ফিরে পাওয়া

তৃপ্ত হৃদয় শেষে হাসে স্বার্থক বেশে।

কোলবালিস লয়ে পিছন ঘুরে শুয়ে

তৃষ্ণার্ত শীত শীত কম্পনে,

অভিমান কহে মনে মননে

ধরো গো জড়িয়ে জড়তা তাড়িয়ে।

কত অভিমান বয়ে উল্টোমুখ শুয়ে

রাগের অনুরাগ চলে,

বাসনার গভীর জলে

মাধুরী মিশিয়ে লীলায় যাই হারিয়ে।

স্বপ্নীল জাগরণে সুখশয্যার চুম্বনে

সুখ দুখের আলাপ মন্থরে,

রাঙাও রাতের মধ্য প্রহরে

প্রেমানন্দে রমণে স্মৃতির রোমন্থনে।

প্রেমের বাতাসে মন নীল আকাশে

ঘামে ভেজা আর্দ্রতা নিয়ে,

আগাম গুচ্ছস্বপ্ন সাজিয়ে

নিত্য প্রেমের পরশে হারাও হরষে।

ও নন্দিনী কামিনী যামিনী রাগিনী

ভাসাও মন চিত্তানন্দে,

হারাও গায়ের সুগন্ধে

আশা সঞ্চারিণী ভব প্রাণ সজনী।

লীন হতে শুয়ে বাহুবেষ্টন জড়িয়ে

ঘুমাও সুখশয্যায় রমণী,

ও অর্ধাঙ্গিনী সহধর্মিনী

মুখোমুখি শুয়ে স্বপ্ন ছড়াও ঘুমিয়ে।

∼∼∼∼∼∼∼∼∼

কবি পরিচিতি-

সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ কবি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (পিতা আব্দুল মান্নান মোল্লা ও মাতা হাজেরা বেগম) বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অন্তর্গত রামপাল ইউনিয়নের জোড়ার দেউল গ্রামের এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৭৮ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। ছয় ভাই ছয় বোনের মধ্যে কবি ১১ তম। উত্তরসূরী হিসেবে স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। ১০ বছর বয়স হতেই কবির লেখালেখির হাতে খড়ি। এছাড়াও পছন্দ দাবা, আড্ডা দেওয়া ও লেখালেখি করা। তিনি এক সময় প্রথম আলো ব্লগ সহ অন্যান্য ব্লগে লেখালেখি করেন এবং বর্তমানে ফেইসবুকে বিভিন্ন অনলাইন সাহিত্য গ্রুপে লেখালেখি সহ সাহিত্য চর্চায় নিবেদিত।

Check Also

জোয়ার ভাটা -মীর সেকান্দার আলী খোকা

জোয়ার ভাটা -মীর সেকান্দার আলী খোকা ∞∞∞∞∞∞∞∞ ঘর-গেরস্থালি গোছাতে খেয়েছে সময় জোয়ার ভাটা, জোয়ারে পলি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *