অনিশ্চিত গন্তব্য
-মোঃ জামাল উদ্দিন
≈≈≈≈≈≈≈≈≈
পৃথিবীর লোভ লালসা মায়া মোহে ধন সম্পদের লিপ্ত
সুন্দর এই দুনিয়া ছেড়ে যাবে অনিশ্চিত গন্তব্য,
সুন্দর এই পৃথিবীতে প্রভু পাঠাইলেন ইবাদতের জন্য
মানুষ পথভ্রষ্ট চলছেই চলছে ভুলে গেছে কর্তব্য।
মানুষের কাল দুটি ইহকাল পরকাল দীর্ঘ পরকাল
অনিশ্চিত গন্তব্য থাকবে জনম জনম,
পৃথিবীর আপনজন কেউ নেবে না তোমার খবর
থাকবে না তোমার কোন নাম।
পৃথিবীর মায়া জালে পড়ে তুমি প্রভুকে বলো না
অনিশ্চিত গন্তব্যে যদি চাও সুখের ঠিকানা,
মানুষ শ্রেষ্ঠ জাতি সৃষ্টি কুলের শিরোমণি হয়ে
দুনিয়ায় করছে প্রভুর সাথে ছলনা।
অনিশ্চিত গন্তব্যটা সাড়ে তিন হাত কবর দেশে
সেখানে কেউ আর ফিরে আসে না,
মানুষ কত আসলো গেল রইল অন্ধকার কবরে
প্রভুর নাম ভুলনা তুমি কামনায় ভাসনা।
অনিশ্চিত গন্তব্যটা বড়ই কঠিন না ফেরার দেশ
সেই গন্তব্যটা সুখ শান্তি তোমার আমলে,
মনো প্রাণ খুলে ডাকো তুমি প্রভু নিরঞ্জন কে
জাহান্নামে হলে গন্তব্য পোড়বে জ্বলে।
দয়াল প্রভু যখন দিবে তোমায় পরকালের ডাক
যাইতে হবে এই ভবের মায়া ছেড়ে,
বড় বাড়ির বড় ঘর ধন-সম্পদ আত্মীয়-স্বজন
যেমনি আছি থাকবে দুনিয়ায় পড়ে।
যখন তোমার দুনিয়ার আয়ুর বাতি যাবে চলে
পড়ে থাকতে হবে অন্ধকার কবরে,
মায়া মমতা ভালোবাসা প্রেম প্রীতি সব ছেড়ে
অনিশ্চিত গন্তব্যটা মাটির অন্ধকারে।
≈≈≈≈≈≈≈≈≈
কবি পরিচিতি
মোঃ জামাল উদ্দিন ১৯৭৩ সালের পহেলা জানুয়ারি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলা, বাঙ্গুরা বাজার থানার অন্তর্গত কালারাইয়া গ্রামের একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মোহাম্মদ আলী এবং মাতা মরহুমা জাহেরা খাতুন।
তিনি যোগেরখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। শ্রীকাইল সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯০ সালে এইচএসসি এবং ১৯৯২ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
নিজ গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণে তিনি শ্রম, অর্থ, বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গ্রামের শান্তি সমাজ কল্যাণ সংঘের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গ্রামের সকলের কাছে একজন বিশ্বস্ত মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি “আবে-মুরাদ জামে মসজিদ”-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। পেশাগত জীবনে তিনি শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রায় চার বছর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রামচন্দ্রপুর সোনামিয়া মোল্লা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। কর্মের তাগিদে ২০০০ সালে ঢাকায় এসে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করার পর নিজেই ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রবেশ করেন। বর্তমানে “কুমিল্লা গ্যাস সেন্টার” ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই কবিতা, গান ও গল্প লেখার প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ ছিল। কবিতা সাহিত্য গ্রুপ থেকে পরপর দুইবার কাব্য সম্মাননা লাভ করেন। নেত্রজল সাহিত্য ম্যাগাজিন থেকে গুণীজন কাব্য সম্মাননা এবং বাংলাদেশ কবি ও সাহিত্যিক পরিষদ থেকে বিশেষ কাব্য সম্মাননা লাভ করেন। এছাড়াও কবিতা, গল্প ও ইসলামিক রচনার জন্য তিনি আরও অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লেখালেখির মাধ্যমে অবসর সময় অতিবাহিত করছেন।
কবিতার পাতা মনের কথা শুনুন,প্রাণের কথা লিখুন