নদী ভাঙনের কান্না
-শান্তি দাস
∼∼∼∼∼∼∼∼∼
নদীর তীরে বসত বাড়ি সম্পদ হারিয়ে বস্তিবাসী,
চাল নেই চুলা নেই ফিরবে কবে সেই সুদিন।
মানুষ অসহায় হারিয়ে গেছে তাদের ভিটেমাটি,
সর্বনাশা নদীর স্রোতে ভাঙে পার সেই নিশিরাতে।
নদীর একূল ভাঙে ওকূল গড়ে নদী চলে আপন বেগে,
চলে জোয়ার ভাটার খেলা মাঝে জোয়ারে ভাঙে পাড়।
ভিটেমাটি তলিয়ে যায় চোখের জলে বুক ভাসায়,
বিলীন হয়ে যায় গাছপালা ভাঙে বসত ঘর।
বর্ষাকালে নদীর অগ্নিমূর্তি শীতকালে স্নিগ্ধ শান্ত,
নদীর এদিক দেখে ওদিক দেখে খোঁজে নদীর কুল।
নিজের মতো চলতে পারে বইয়ে চলে আপন স্রোত ,
কত স্মৃতি মিশে যায় মাটির সাথে দুচোখে কান্না ঝরে।
চেয়ে চেয়ে দেখে কেড়ে নেয় নদী তার শেষ সম্বলটুকু,
নদী একদিকে ভাঙে আর অপর দিকে নদীর চর।
স্রোতে কেড়ে নেয় সব আপনজনকে করে পর,
জীবনে ভাঙা আর গড়া এ যে প্রকৃতির খেলা ।
নদীর স্রোত বয়ে চলে ঠিকানা বিহীন তার পথ,
বেঁচে থাকার লড়াইয়ে অবরত চলছে সংগ্রাম।
নদী ভাঙনের কান্নায় এই বুকভাসা ব্যথা নিয়ে,
বয়ে বেড়ায় আজন্ম মানুষের এই নীরবতা ।
∼∼∼∼∼∼∼∼∼
কবি পরিচিতি-
ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা ।উত্তর পূর্বাঞ্চলের খুব ছোট একটা রাজ্য ।ত্রিপুরার তিনদিকেই বাংলাদেশের ঠিকানা ।রাজধানী থেকে কিছুটা দূরে দূর্জয় নগরে আমার জন্ম ।ছোটবেলা আমি খেলাধুলা করতাম।গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষা শুরু ।ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী মহারানী তুলসীবতী বালিকা বিদ্যালয়ে।স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মহারাজা বীরবিক্রম কলেজে।এরপর কোলকাতা নদীয়ার কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করি। ১৯৯৬ সালে শিক্ষা দপ্তরে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পদে শিক্ষকতা শুরু।
কবিতার পাতা মনের কথা শুনুন,প্রাণের কথা লিখুন