কচুরিপানা -মোহাম্মদ ছোলেমান ভূঁইয়া

প্রবন্ধ 

কচুরিপানা

-মোহাম্মদ ছোলেমান ভূঁইয়া

∼∼∼∼∼∼∼∼∼∼

১৮৮৪ সালের দিকে জর্জ মরগান নামে এক স্কটিশ ব্যবসায়ী ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গল থেকে এই অর্কিড সদৃশ ফুলটি বাংলায় নিয়ে আসেন। তার উদ্দেশ্য ছিল বাগান সাজানো। তখন তার এই মোহনীয় রূপের আড়ালে লুকিয়ে ছিলো এক মহাবিপদ! এই কচুরিপানা অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে বাড়তে পারে। মাত্র ৫০ দিনে ১টি গাছ থেকে ৩ হাজার গাছ হতে পারে।১৯২০ সালের মধ্যে এটি বাংলার নদী-নালা এমনভাবে দখল করে নেয় যে,বাণিজ্যের প্রধান রুট তথা নৌপথগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

মাছ মরে পানিতে পচন শুরু হয়। ম্যালেরিয়া ও কলেরার জীবাণু ছড়ানোর প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠে এই কচুরিপানা। ধানক্ষেত নষ্ট করে দুর্ভিক্ষ ডেকে আনে।১৯৪৩ এর দুর্ভিক্ষের পেছনেও এর হাত ছিলো বলে অনেকে মনে করতেন। অবস্থা এতটাই বেগতিক ছিল যে, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের প্রধান অঙ্গীকারই ছিলো “বাংলাকে কচুরিপানা মুক্ত করা!”

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক স্বয়ং ‘কচুরিপানা সপ্তাহ’ পালন করে এটি দমনে নেমেছিলেন। ব্রিটিশ সরকার আইন করে এটি পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক করেছিলো। মানুষ তখন এর নাম দিয়েছিলো ‘বিউটিফুল ব্লু ডেভিল বা বেঙ্গল টেরর’। কালের পরিক্রমায় মানুষের বুদ্ধিমত্তায় এই অভিশাপ এখন কোটি কোটি মানুষের আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।এটি এখন উন্নত মানের জৈব সার ও বায়োগ্যাস তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।এর ডাটা দিয়ে তৈরি হচ্ছে চমৎকার ব্যাগ, ম্যাট ও হস্তশিল্প যা বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।এটি প্রাকৃতিকভাবে পানি থেকে ভারী ধাতু (সীসা, পারদ) শোষণ করে পানি পরিষ্কার রাখে। কৃষকগণ এখন কচুরিপানা ব্যবহার করে পানিতে ভাসমান বিভিন্ন ফসল আবাদ করছে। ​প্রকৃতির কী অদ্ভুত খেলা যা একসময় ‘বিউটিফুল ব্লু ডেভিল বা বেঙ্গল টেরর’ নামে পরিচিত ছিলো, তা আজ ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের প্রাণ এবং বাংলার অর্থনীতিতে এখন চমৎকার ভূমিকা রাখছে।

∼∼∼∼∼∼∼∼∼∼

লেখক পরিচিতিঃ

কবি মোহাম্মদ ছোলেমান ভূঁইয়া ৪ঠা এপ্রিল ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার বক্রিকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।পিতা আবদুল জলিল ভূঁইয়া ও মাতা মোসাঃ ছালেহা বেগম।

তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। বর্তমানে চান্দিনা মোকাম বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিনি বিভিন্ন পত্রিকা ও সাহিত্য গ্রুপে লেখালেখি করে থাকেন। তিনি একাধারে একজন কবি, ছড়াকার, গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও শিক্ষক।

মেঘলা আকাশে পূর্ণিমা চাঁদ, নীলার মনে নীল দুঃখ, আলোয় ফেরার রইলো নিমন্ত্রণ, তিমির বিনাশী বাতিঘর, মন গহীনে পোড়ে মন, এক অকিঞ্চন আত্মভোলা ও অতিক্রান্ত স্টেশনের গল্প’ তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি।

তিনি আন্তর্জাতিক কবি ও সাহিত্যিক পরিষদ কর্তৃক ‘গ্রন্থ সম্মাননা-২০২৫ ইং’, পীরে কামেল দেওয়ান মাহবুবুল আলম (চিঃ)’সাহিত্য পুরস্কার -২০২৫ ইং’ও কবি বন্ধু সাহিত্য পাতা কর্তৃক ‘কবি নজরুল এওয়ার্ড-২০২৫ ইং’ অর্জন করেছেন।

Check Also

Painting By Monica Rusu

Artist:  Monica Rusu from Buzău,România  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *