প্রাণের অভাবে
-রবিন রায়
∼∼∼∼∼∼∼∼∼
সব যেনো ফুরিয়ে গেছে কবে,
এবার তবে, হারিয়ে যেতে হবে!
যেজন কাছে থাকাটাই ছিলো সুখ,
সেজন ঘুরিয়ে নিয়েছে অভিমুখ ;
থাকুক আমার প্রিয়া,ভালো থাকুক,
তার সুখেতে নিঃশ্ব করে দিলাম বুক।
আর তো আমার কিছুই নেই যে এ ভবে…..!
সব যেনো ফুরিয়ে গেছে কবে,
এবার তবে, হারিয়ে যেতে হবে!
আমার আর আশা নেই, ইচ্ছে নেই,
চাওয়া নেই, পাওয়া নেই, শূন্য খেই ;
অযথা কালাতিপাত, বৃথা দুঃখ বই,
চিরতরেই পর হয়েছে আমার সই।
আমি থাকলে পরে আমায় ভেবে দুঃখ পাবে…..!
সব যেনো ফুরিয়ে গেছে কবে,
এবার তবে, হারিয়ে যেতে হবে!
সেচ্ছায় সে বেঁধেছে বাঁধন ভিন্ন সনে,
আর কোনো অধিকার নেই এ প্রানে ;
হয়তো আমিই দুঃখ ছিলাম জীবনে,
ভালোবেসে তাই সইতে দিয়েছে দীনে।
রঙিন যত স্বপ্ন ছিলো আজ মলিন হলো ভাবে…….!
সব যেনো ফুরিয়ে গেছে কবে,
এবার তবে, হারিয়ে যেতে হবে!
এখন আমি ষড়রিপুর আবেশ ক্ষীণ,
উতলা হওয়ার যৌবন আবেগ শূন্য ;
বিগত বিবস সময়ের নিরাশা পূর্ণ,
একরাশ হতাশারই দীর্ঘশ্বাসে জীর্ণ।
বিশ্বাস ভাঙা হৃদয় আমার আর কিই বা চাবে……!
সব যেনো ফুরিয়ে গেছে কবে,
এবার তবে, হারিয়ে যেতে হবে!
সুখলোভ দেখিয়ে লুটেছে বিধাতা শঠ,
এই পৃথিবী ঠকবাজেদের চাঁদের হাট;
বিতর্ক সভায় দেখায়নি বাহারি ঠাট,
চাতুরীদের রংতামাশায় চুকিয়েছি পাঠ।
অভিযোগ করি কারে ? ঈশ্বরও সম স্বভাবে……!
সব যেনো ফুরিয়ে গেছে কবে,
এবার তবে, হারিয়ে যেতে হবে!
সবাইকে পরম শান্তি দিয়েই মুক্ত হবো,
এবার সময় এসেছে চিতায় উঠবো ;
আমি আপদ আর জ্বালাতে না রবো,
কবে, কখন, কোথায় সে কথা না কবো।
পথ চলতি সহসা হারাবো শমন সনে নিরবে……!
সব যেনো ফুরিয়ে গেছে কবে,
এবার তবে, হারিয়ে যেতে হবে!
উত্তরাধিকারে রাখিনি কোনো দাবীদার,
তাই শবদেহের নেই কারোর অধিকার ;
জনদাহনে ভস্ম হবে বাতাসে সমাহার,
অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে চিরতরে আমার।
যত কলঙ্ক কোলাহল সেদিন সব মুছে যাবে……..!
সব যেনো ফুরিয়ে গেছে কবে,
এবার তবে, হারিয়ে যেতে হবে!
মহা প্রলয়ে, এই সৃষ্টি যদি নষ্ট হয়,
নূতন লয়ে, সত্য যদি স্পষ্টতা পায়;
আমি আসবো ফিরে তখন সহৃদয়,
নিষ্পাপ মনের প্রেমসাগরে নির্দ্বিধায়।
ঈশ্বরের দরবারে এই প্রার্থনা রাখি জবাবে…..!
সব যেনো ফুরিয়ে গেছে কবে,
এবার তবে, হারিয়ে যেতে হবে!
∼∼∼∼∼∼∼∼∼
কবি পরিচিতি ঃ—-
ছড়াকর, কবি ও সাহিত্যিক সম্মানিত এবং শ্রদ্ধেয় গুণী কবিবর রবিন রায়, অধুনা পশ্চিম বঙ্গের অন্তর্গত উত্তর ২৪ পরগণা জেলার পশ্চিম ধনিয়া গ্রামের নিবাসী। তিনি বহু মানসম্মত ও উৎকৃষ্ট লেখার মাধ্যমে নিজেকে প্রজ্জ্বলিত করেছেন। উনার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ। তবে বাঙালি ঘরে জন্ম সূত্রে বাংলা ভাষা এবং বাংলা কবিতার প্রতি সুতীব্র আকর্ষণে বাংলা সাহিত্যকে ভালোবাসেন। সেই অপার কবিতা প্রেম থেকেই তাঁর এই লেখালেখির মাধ্যম বেছে নেওয়া। তাঁর লেখায় পাঠকবৃন্দের অভিমত এবং গঠনমূলক মন্তব্য প্রদানের আর্জি রাখেন।পাঠক মহলের হৃদয় স্পর্শ করতে পারলেই
তিনি প্রচেষ্টায় সার্থক এবং ধন্য হন। সকল মাননীয়, শ্রদ্ধেয় এবং প্রণম্য সম্পাদক, পাঠক ও সমালোচক গণকে কলমধারীর কুর্নিশ রইলো সতত।
কবিতার পাতা মনের কথা শুনুন,প্রাণের কথা লিখুন