আমার শিক্ষক
-মীর সেকান্দার আলী খোকা
∞∞∞∞∞∞∞
মানুষটা বড় বদ মেজাজি,হিসাবে ছিল কিপটে
লুঙ্গি পড়ে পথ মারত সে
জামাটা রাখতো উল্টো।
চুল দাড়ি গোপ ইয়া ইয়া তার
বলতো কথা কম,
ভাবতো পাগল, বোঝেনা তেমন
দাম দিত না কেউ।
বলতো কথা শুদ্ধ বাংলা অবাক হতো মানুষ,
পাগল হলে এমন বয়ান দিত কি আর কেউ !
ফিশ ফিশিয়ে এ কান ও কান তিন কানে যায় চলে,
বুঝতে কিছু চাইলে মানুষ মধুর বয়ান দিত।
অর্ধাহারে কাটতো বেলা
ফুটপাতে তার বাস,
বিশেষ দিনে আসতো সে, শুনত বয়ান খাস।
নেকের কাজে স্বর্গ আছে মন্দ কাজে নরক,
এ যে বড় মজার হিসাব শুনতো পাগল বেশ।
কদিন পরে নিরালাতে হুজুর পেয়ে একা
প্রশ্ন ছুড়ে, ও হুজুর, গজ ফিটে দিয়ে দৈর্ঘ্য প্রস্থে
স্বর্গ দেবে কি সত্যি স্রষ্টা?
মহা বিপদে হুজুর এবার এদিক ওদিক চায়,
দেখলো কি কেউ ! জোচ্চোর হিসাব কেমন করে দিই।
হুজুর এবার সরকেপরে বাহারি বিপদ বুঝে
লোকটা কিন্তু নয় তো পাগল দার্শনিক সে বটে।
থানার পাশে ঘুরছে পাগল সন্দেহ গতিবিধি
পুলিশ নিলো হাজতবাসে প্রশ্ন করে শুধু।
পুলিশ সুপার দেখতে এলো কেমন পাগল সে,
বললো দেখে দাও ছেড়ে ভাই,দর্শনে আমার শিক্ষক যে।
∞∞∞∞∞∞∞
কবি পরিচিতি-
জন্ম: ১৫ জুন ১৯৬৬ ইং, বিভাগীয় শহর,ভেরি পাড়া, রাজশাহী। পিতা মৃত: মীর মোক্তার আলী, মাতা মৃত: লতিফা খাতুন, ৫ ভাই ৩ বোন, কবি সপ্তম। শৈশবের অনেকটা সময় রাজশাহী অঞ্চলেই কেটেছে, পিতার চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল দেখা মিলেছে। ছোট থেকেই লেখালেখিতে অভ্যস্ত, দৈনিক সানসাইন রাজশাহী, দৈনিক উত্তরা ও সংজ্ঞা দিনাজপুর, সপ্তাহিক জনরব+আলপনা সাহিত্য ঠাকুরগাঁও, মাসিক ম্যাগাজিন একদিন প্রতিদিন+প্রিয়তমেষু ঢাকা। উল্লেখিত পত্রিকা গুলোতে নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হয়েছে, বর্তমানে বেশ কিছু অনলাইন পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ:(১) আলো ছায়া (২) লাল ঘুড়ি নীল মন (৩) সময়ের রঙ ২০২৫ এবং ২০২৬ ইং বইমেলা ঢাকা। সাংসারিক জীবনে দুজন কন্যা সন্তানের জনক, স্থায়ী নিবাস, ১ নং ওয়ার্ড, মাদ্রাসা পড়া, পৌরসভা, জেলা সদর ঠাকুরগাঁও। (কবি বর্তমান সরকারি চাকরি থেকে অবসর জীবনের অধিকারী)
কবিতার পাতা মনের কথা শুনুন,প্রাণের কথা লিখুন